ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান: জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’র আলোচনা সভা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-০৬-২০২৬ ০২:৩২:১৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৬-২০২৬ ০২:৩২:১৯ অপরাহ্ন
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান: জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’র আলোচনা সভা সংবাদপত্রের কালো দিবস’ শীর্ষক


​মোঃ নুরুল ইসলাম খোকন। 
বিশেষ প্রতিনিধি: 

স্বাধীন সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের কালো অধ্যায়কে স্মরণ করে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

​সভায় দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন বক্তারা।

​আলোচনা সভার শুরুতেই মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৬ জুনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, "১৬ জুন বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক দিন। মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে তৎকালীন শাসকেরা গণমাধ্যমের পায়ে যে শিকল পরিয়েছিল, তার ক্ষত আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিলে গণতন্ত্র কখনো টিকে থাকতে পারে না।" তিনি বর্তমান সময়েও সাংবাদিকদের ওপর ডিজিটাল ও অদৃশ্য নানা বিধিনিষেধের অবসান দাবি করেন।


​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। অতীতে যেভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, সেই কালো অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি আর কখনোই বাংলাদেশে ঘটবে না।"

​তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছি। হলুদ সাংবাদিকতা বর্জন করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে দেশের সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাই। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে যেকোনো আইনি বা প্রশাসনিক বাধা দূর করা হবে।"

​অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্যে বলেন, "যে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকে না, সে দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি ধসে পড়ে এবং স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হয়। ১৬ জুনের কালো আইন ছিল মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন চিন্তার ওপর একটি চরম আঘাত।
​তিনি আরও বলেন, "একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে শক্তিশালী ও স্বাধীন সংবাদপত্রের কোনো বিকল্প নেই।



সরকার স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গণমাধ্যমের সমালোচনাকে স্বাগত জানায়। আমরা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সবসময় পাশে আছি। আসুন, দল-মত নির্বিশেষে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি।"

​আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম। সমাপনী বক্তব্যে তিনি প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "সাংবাদিক সমাজ সবসময় শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেবল সাংবাদিকদের অধিকার নয়, এটি জনগণের তথ্য পাওয়ার মৌলিক অধিকার। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং সকল ধরনের কালো আইন বাতিলের মাধ্যমে মুক্ত সাংবাদিকতার পথ সুগম করবে।"

​সভায় বিএফইউজে ও ডিইউজে-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ